Official Website of Khulna City CorporationOfficial Website of Khulna City Corporation

Latest News


নগর ভবনে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, ইবোলা ভাইরাসের সংক্রামনে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত নয়। জাতিসংঘের শান্তি মিশন, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী এবং উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহর খুলনা একটি ট্রানজিট নগরী। বেনাপোল ও ভোমরা স্থল বন্দর, মংলা নৌ বন্দর এবং যশোর বিমান বন্দর থেকে যাতায়াতকারীরা সকলেই কোন না কোন কারণে খুলনা শহর অতিক্রম করছেন। সে জন্য খুলনা ও এর আশপাশের জনসাধারণকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরী প্রয়োজন।

সিটি মেয়র আজ সোমবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। ‘‘রোগ প্রতিরোধ-চিকিৎসা থেকে উত্তম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এ সভার আয়োজন করে। 

সিটি মেয়র সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে যেন আতংক না ছড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এ ভাইরাসের কোন চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নেই সে জন্য প্রতিরোধই একমাত্র ব্যবস্থা। তিনি ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে হজ্জ্ব গমনেচ্ছুদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি জবাইকৃত ও বাজারে বিক্রিত প্রাণীর সুস্থতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান বিশ্বাস-এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্যানেল মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান বিশ্বাস, শেখ হাফিজুর রহমান, রুমা খাতুন, কেসিসি’র স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মোরশেদ আহমেদ, স্বাস্থ্য বিভাগ-খুলনার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ আব্দুল হাই, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. সাইদ হোসেন মোঃ নূর আফজাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ইসহাক আলী। স্বাগত বক্তৃতা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আব্দুল্লাহ। সভায় কেসিসি’র কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় জানানো হয় পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উদগত ইবোলা ভাইরাস মানব কোষে প্রবেশ করে খুব দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করতে পারে। সাধারণত বাদুড় বা বাদুড় প্রজাতি এই ভাইরাসের মূখ্য পোষক বলে ধারণা করা হয়। তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীরের গিটে ব্যথা, দুর্বলতা, গলাফোলা ইত্যাদি এ ভাইরাসে আক্রান্তের অন্যতম লক্ষণ। ভাইরাসের আক্রমনের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে রোগীর নাক, কান ও চোখ দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া সর্দি, কাশি ও মলত্যাগের সময় রক্ত যাওয়ার পাশাপাশি চামড়ায় গুটি দেখা দিতে পারে। ইবোলা ভাইরাস বাতাস, পানি বা খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় না। ইবোলা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে কিংবা রোগীর শরীর নিঃসৃত তরল যেমন রক্ত, লালা ইত্যাদির সংস্পর্শে ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইবোলা আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সেবায় নিয়োজিত কিংবা মৃতরোগীর সৎকারের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা খুব সহজেই ইবোলা আক্রান্ত হতে পারে। সে জন্য চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের যথাযথ নিরাপত্তা আচ্ছাদন ও যাবতীয় সরঞ্জাম পরিস্কার ও জীবাণু মুক্ত এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে পৃথক জায়গায় রাখতে হবে। ইবোলার প্রতিষেধক নেই তাই সচেতন প্রতিরোধই নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায়।